দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
মাঠে অনুপস্থিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন
মুহম্মদ এরশাদ। এর পরও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পক্ষে আশাবাদী জাতীয় পার্টির
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। দলটির একজন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও
নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের একজন মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে
কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কমপক্ষে ২০টি আসনে বিজয়ী হবে।
এদিকে আজকের নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এরশাদের
বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ। গতকাল শনিবার লন্ডন থেকে এক ভিডিও বার্তায়
তিনি বলেন, এরশাদ নির্বাচনে যাচ্ছেন না বলেই তাঁকে (এরশাদ) আটকে রাখা
হয়েছে। ভিডিও বার্তায় তিনি দলের চেয়ারম্যানের তাঁকে লেখা একটি চিঠিও দেখান।
ববি বলেন, যাঁরা নির্বাচনে যাচ্ছেন তাঁরা যা খুশি বলতে পারেন। চেয়ারম্যান
নির্বাচনে যাচ্ছেন না এবং সে কারণে তিনি দেশবাসীর সামনে আসতে পারছেন না।
আজকের
নির্বাচনে ঢাকায় দুটি আসনসহ সারা দেশে আরো ৬৪টি আসনে জাপা প্রার্থীরা
রয়েছেন। তাঁরা মোকাবিলা করছেন স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ ও অন্য দলের
প্রার্থীদের। এরশাদের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী ও পার্টির সিনিয়র
প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের নেতৃত্বেই জাপা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রয়ে
যায় এবং এরপর তাদের ২০ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।
তবে
জাতীয় পার্টির একটি অংশ (যারা নির্বাচনে নেই) মনে করে, যোগ্যতাবলে নয়,
জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন সরকারের করুণায়। জাপার এ অংশের
দাবি, যেহেতু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনে নেই, তাই সরকার জাতীয়
পার্টিকেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে বিজয়ী করতে অর্ধশতাধিক আসনে নৌকা
প্রতীকের প্রার্থীদের উঠিয়ে নিয়েছে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম
সদস্য ও সাবেক এমপি আহসান হাবিব লিংকন কালের কণ্ঠকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান
যেহেতু নির্বাচনে নেই, তাই কে বিজয়ী হবে আর কে বিজয়ী হবে না তা নিয়ে দলের
মাথাব্যথা নেই।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ
রশীদ, জিয়া উদ্দিন বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা এখন
নির্বাচনী মাঠে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শুক্রবার
রওশন এরশাদ দলীয় প্রধানের বক্তৃতা বিটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে না বলে নির্বাচন
কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা যেসব আসনে নির্বাচন
করছেন সেসব আসনে নৌকার প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলেও অনেক
আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন জাপার প্রার্থীদের
প্রতিদ্বন্দ্বী।
দুই শতাধিক আসনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দিলেও জাতীয়
পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ গত ৩ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা
দেন। এরশাদ প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও অনেকে তা
প্রত্যাহার করেননি। এরই মধ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক
হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার
প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেন।
0 Response to "এরশাদ দৃশ্যে নেই, তবু আশাবাদী জাপা প্রার্থীরা"
Post a Comment